জলবায়ু (Climate)
বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এখানে এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত। ঋতুভেদে এ জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হয় কিন্তু কখনো এটি অন্যান্য শীতপ্রধান বা গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না।
বাংলাদেশের মোট ঋতু ৬ টি। যথা- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। বর্ষাকালকে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়।
গ্রীষ্ম = বৈশাখ + জ্যৈষ্ঠ
বর্ষা আষাঢ় শ্রাবণ,
শরৎ = ভাদ্র + আশ্বিন
হেমন্ত = কার্তিক-অগ্রহায়ণ
শীত = পৌষ + মাঘ
বসন্ত = ফাল্গুন + চৈত্র
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেমি (২০৩০ মি.মি.)। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক পঞ্চমাংশ (২০%) হয় গ্রীষ্মকালে এবং অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ (৮০%) হয় বর্ষাকালে। কালবৈশাখী ঝড় (North Westerlies) গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে এ ঝড় হয়।
সিলেটের লালখানে (বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে। উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে শীতকালে কম বৃষ্টিপাত হয়।
কালবৈশাখীর সময়কাল
| সময়কাল | সূত্র |
| চৈত্র-বৈশাখ | সামাজিক বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি) |
| বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য | বাংলাপিডিয়া |
সময়কাল | গড় তাপমাত্রা |
| বার্ষিক | ২৬.০১° সে. |
| গ্রীষ্মকাল | ২৮° সে. |
| বর্ষাকাল | ২৭° সে. |
| শীতকাল | ১৭.৭° সে. |
বাংলাদেশের... | উষ্ণতম | শীতলতম |
| স্থান | নাটোরের লালপুর | শ্রীমঙ্গল, সিলেট |
| জেলা | রাজশাহী | সিলেট |
| মাস | এপ্রিল | জানুয়ারি |
ঘূর্ণিবাড়: এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে। মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের নাম 'অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল'। ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর (Sidr) বাংলাদেশে আঘাত হানে। 'সিডর' সিংহলী শব্দ যার অর্থ চোখ। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২'। ২৫ মে, ২০০৯ ঘূর্ণিঝড় 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে। আইলা অর্থ 'ডলফিন' বা শুশুক জাতীয় এক ধরনের প্রাণী। ১৬ মে, ২০১৩ ঘূর্ণিঝড় 'মহাসেন' বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে।
মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO)
Space Research and Remote Sensing Organization মহাকাশ গবেষণাকারী সরকারী সংস্থা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। এটি ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৭৭০) এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।
১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ২০ জুন কলকাতা দখল করার পর লর্ড ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন তামিলনাড়ু থেকে জাহাজযোগে সৈন্য এনে ১৭৫৭ সালের ২ জানুয়ারি কলকাতা পুনর্দখল করেন। এরপর চন্দননগর দখলের পর তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগত শেঠসহ সিরাজের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে নদীয়ার পলাশির প্রান্তরে একটি প্রহসনমূলক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে নিহত হন। চুক্তি অনুযায়ী মীরজাফর বাংলার নবাব হন এবং ক্লাইভ নগদ ত্রিশ লক্ষ টাকা ও চব্বিশ পরগনার জায়গির লাভ করেন, যা থেকে তার বছরে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় হতো।
১৭৬০ সালে ক্লাইভ দেশে ফিরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে ইংরেজ শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ১৭৬৫ সালের মে মাসে তাকে আবার বাংলায় ডেকে আনা হয় এবং গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। একই বছরের ১ আগস্ট দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। এর ফলে নবাব কেবল নামমাত্র শাসক হিসেবে থেকে যান এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। এই নতুন শাসনব্যবস্থাই ‘দ্বৈত শাসন’ নামে পরিচিত, যেখানে নবাব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব কোম্পানির হাতে ন্যস্ত থাকে।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার নবাব কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন এবং কোম্পানির কর্মচারীরা খাজনা আদায়ের নামে অবাধ লুণ্ঠন ও নির্যাতন শুরু করে। এ অবস্থার মধ্যেই অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং ত্রুটিপূর্ণ ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা ও খাদ্যবাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যদিও কোম্পানি শাসকরা একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তথাপি বাস্তবে দেখা যায় যে দুর্ভিক্ষের আগের বছরেও রাজস্ব আদায় বেড়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে বাংলার বহু অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারায়। এই সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার, যার শাসনামলেই দেশে চরম বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ১১৭৬ সালে
বাংলা ১০৭৬ সালে
বাংলা ১৩৭৬ সালে
বাংলা ১২৭৬ সালে
১১৭৬ সালে
১২৭৬ সালে
১৩৭৬ সালে
১৪৭৬ সালে
১১৭৬ সালে
১২৭৬ সালে
১৩৭৬ সালে
১৪৭৬ সালে
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একে ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলাদেশ মূলত তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই অঞ্চলে দীর্ঘকাল বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় মাটির নিচে প্রচুর শক্তি জমা হয়ে আছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সাম্প্রতিক ও ঐতিহাসিক উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প
২০২৫ সাল এবং এর আগের উল্লেখযোগ্য কিছু ভূমিকম্পের তথ্য:
২১ নভেম্বর, ২০২৫: নরসিংদীর মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দেয়।
৪ ডিসেম্বর, ২০২৫: ঢাকার খুব কাছে (৩৬ কিমি দূরে) ৪.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
১৮৯৭ (গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েত): এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প (৮.১ মাত্রা), যার কেন্দ্র ছিল আসামে কিন্তু পুরো বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
১৯১৮ (শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প): ৭.৬ মাত্রার এই কম্পনে শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more